নিজস্ব সংবাদদাতা, মালতীপুর (মালদা):
মালদার মালতীপুরে নির্বাচনী সভা শেষ করে পরবর্তী গন্তব্যে রওনা দেওয়ার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হেলিকপ্টারের সামনে আচমকাই দেখা গেল একটি রহস্যময় ড্রোন। হেলিপ্যাডের খুব কাছ দিয়ে ড্রোনটি উড়তে দেখেই থমকে যান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে মাইক হাতে নিয়ে তিনি বলেন, “এক্ষুনি হেলিকপ্টারটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে ধ্বংস হয়ে যেত।” ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে মালতীপুরের সভাস্থলের হেলিপ্যাডে। একটি সভা সেরে পরবর্তী গন্তব্যে রওনা দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক সেই সময় কপ্টারের সামনে ড্রোনটি ভেসে উঠতে দেখা যায়। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত সতর্ক হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য সভা থেকেই পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “পুলিশের নজর রাখা উচিত। কারা এটা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এটি নিছক কৌতূহলী ড্রোন ওড়ানো নয়, বরং VVIP নিরাপত্তায় বড়সড় গাফিলতির ইঙ্গিত হতে পারে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে— এত কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ড্রোন অপারেট হলো কীভাবে?
সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর হেলিপ্যাডের আশপাশে নো-ফ্লাই জোন কার্যকর থাকে। সেখানে অনুমতি ছাড়া কোনও ড্রোন উড়ানো গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন। ফলে ড্রোনটির উৎস, অপারেটর এবং উদ্দেশ্য— সব কিছুই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকা এবং সভাস্থলের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ড্রোনটি স্থানীয় কারও, নাকি বাইরে থেকে পরিকল্পিতভাবে আনা হয়েছিল, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নির্বাচনের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মতামত লোড হচ্ছে...