আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
১১, মার্চ -
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা। বিশেষ করে চলমান Iran–Israel conflict পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনই বড় প্রশ্ন উঠছে—সংকটের সময় ভারতের হাতে কতটা তেল মজুত আছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৌশলগত তেল মজুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে India।
এদিকে টেন্ডার হয়েছে, কিন্তু কাজ এগোয়নি।
ভারত সরকার বহু বছর আগে Strategic Petroleum Reserve বা কৌশলগত তেল মজুত প্রকল্প বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। ওডিশার চাঁদিখোল, কর্ণাটকের পাদুরসহ একাধিক জায়গায় নতুন স্টোরেজ তৈরির জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জমি সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রকল্পই বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। ফলে পরিকল্পনা থাকলেও দেশের মোট তেল মজুত ক্ষমতা প্রত্যাশামতো বাড়েনি।
বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতি দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। যেমন United States প্রায় ৯০ দিনের বেশি তেলের মজুত রাখে। China-ও প্রায় ৯০ দিনের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছে এছাড়াও Japan-এর ক্ষেত্রে এই মজুত ১৬০ থেকে ২০০ দিনের কাছাকাছি।
অন্যদিকে ভারতের কৌশলগত তেল মজুত তুলনামূলক অনেক কম, যা বড় সংকটের সময় দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে সক্ষম নয়।
প্রশ্ন উঠছে—টেন্ডার হলেও কাজ শেষ হলো না কেন?
এই প্রকল্পগুলোর জন্য ইতিমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ এবং টেন্ডার হয়েছে। তবুও কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—
টেন্ডার হওয়ার পরও প্রকল্পগুলো কেন এগোলো না?
প্রশাসনিক জটিলতা, জমি সমস্যা নাকি নীতিগত দেরি—কোন কারণ প্রকৃত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্পে এই ধরনের দীর্ঘ বিলম্ব ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নতুন করে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় যেকোনো সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে বড় তেল মজুত থাকলে অনেক দেশ কয়েক মাস পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে মজুত সীমিত হওয়ায় দীর্ঘ সংকট দেখা দিলে অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়তে পারে।
এখন দেখার বিষয় সরকারের বিকল্প পরিকল্পনা কী?
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
যেমন নতুন Strategic Petroleum Reserve দ্রুত নির্মাণ ,বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে স্টোরেজ বাড়ানো ,বিদেশে তেল মজুতের চুক্তি করা ,তেলের আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের বড় কোনো সংকটে ভারতকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, বরং একটি দেশের কৌশলগত শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আটকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা না গেলে ভবিষ্যতে তেলের বাজারে অস্থিরতার সময় সাধারণ মানুষ এবং শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারতে।
মতামত লোড হচ্ছে...