ট্রাভেল ডেস্ক :- পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi দেশবাসীর কাছে আপাতত অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ কমানোর আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়। তবে এই ঘোষণার পর অনেক ভ্রমণপ্রেমীর মনেই প্রশ্ন উঠেছে— তাহলে কি এবার ঘোরাঘুরি বন্ধ? উত্তর একটাই— একেবারেই নয়। বরং এই সময়টাই হতে পারে নিজের দেশকে নতুন করে আবিষ্কার করার সেরা সুযোগ।
ভারত এমন এক দেশ, যেখানে একইসঙ্গে রয়েছে Switzerland-এর মতো পাহাড়, France-এর মতো colonial town, Thailand-এর মতো tropical forest এবং Maldives-এর মতো সমুদ্রসৈকতের অনুভূতি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যেখানে কম খরচে, কম সময়ে এবং ভিসা ছাড়াই বিদেশি অনুভূতি পাওয়া সম্ভব।
পাহাড় ভালোবাসেন? তাহলে প্রথমেই ঘুরে আসুন দার্জিলিং । মেঘে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তা, British-era architecture, Toy Train, tea garden এবং café culture মিলিয়ে দার্জিলিং অনেকটা Switzerland বা Scotland-এর ছোট পাহাড়ি শহরের মতো অনুভূতি দেয়। সকালে Tiger Hill-এ সূর্যোদয় এবং Kanchenjunga view পর্যটকদের কাছে অন্যতম বড় আকর্ষণ। কলকাতা থেকে Darjeeling পৌঁছানোর জন্য Sealdah থেকে Darjeeling Mail, Padatik Express অথবা Howrah থেকে Vande Bharat Express ধরে New Jalpaiguri পৌঁছে গাড়িতে সহজেই যাওয়া যায়।
দার্জিলিংয়ের কাছেই রয়েছে Kalimpong । শান্ত পাহাড়ি পরিবেশ, Buddhist monastery, pine forest, colorful café এবং Himalayan vibe-এর জন্য Kalimpong-কে অনেকেই “Mini Bhutan” বলে থাকেন। এখানকার Deolo Hill, Durpin Monastery এবং local café culture তরুণ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। New Jalpaiguri পর্যন্ত ট্রেনে এসে সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছানো যায়।
যাঁরা adventure ও trekking ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য সেরা destination হল Sandakphu। এটি পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ trekking destination, যেখান থেকে পরিষ্কার আকাশে একসঙ্গে Everest, Kanchenjunga, Lhotse এবং Makalu-র মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। মেঘে ঢাকা পাহাড়ি পথ, ঠান্ডা আবহাওয়া এবং snow-covered landscape পুরো এলাকাকে অনেকটা Nepal কিংবা Swiss Alps-এর মতো অনুভূতি দেয়। New Jalpaiguri থেকে Manebhanjan পৌঁছে সেখান থেকেই শুরু হয় বিখ্যাত Sandakphu trekking ।
প্রকৃতি, জঙ্গল এবং luxury resort-এর বিদেশি vibe পেতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসুন Dooars। Lataguri, Jaldapara, Gorumara এবং Chilapata Forest-এর সবুজ জঙ্গল, নদীর ধারে resort এবং wildlife safari অনেকটা Thailand বা Bali-এর tropical jungle destination-এর মতো অনুভূতি দেয়। বৃষ্টিভেজা forest road, tea garden এবং শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলিয়ে ডুয়ার্স এখন পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় eco-tourism destination। Howrah থেকে Kanchankanya Express, Teesta Torsa Express অথবা Saraighat Express ধরে New Mal Junction কিংবা Alipurduar পৌঁছে খুব সহজেই ডুয়ার্স ভ্রমণ করা ।
France-এর colonial feel পেতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসুন । একসময়ের French colony হওয়ায় এখানকার Strand Road, Sacred Heart Church, Dupleix Palace এবং পুরনো French-style architecture আজও ইউরোপীয় আবহ বহন করে। গঙ্গার ধারে সাজানো promenade, পুরনো আলোকসজ্জা এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে Chandannagar অনেকটা ছোট্ট French riverside town-এর মতো অনুভূতি দেয়। বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলায় Strand Road ধরে হাঁটলে মনে হবে যেন Europe-এর কোনও ঐতিহাসিক শহরের নদীর ধারে সময় কাটাচ্ছেন। কলকাতার Howrah-Bardhaman main line-এর লোকাল ট্রেনে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই ঐতিহাসিক ও সুন্দর শহরে।
সমুদ্র ভালোবাসেন? তাহলে আপনার জন্য আদর্শ Bakkhali। শান্ত সমুদ্র, কম ভিড়, দীর্ঘ beach road এবং মনোরম sunset view অনেকটা Thailand বা Indonesia-এর beach town-এর vibe দেয়। নিরিবিলি পরিবেশ এবং সমুদ্রের ধারে দীর্ঘ রাস্তা Bakkhali-কে weekend trip-এর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। Sealdah South section থেকে Namkhana পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে road route-এ খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই সুন্দর ।
শিল্প, সাহিত্য এবং শান্ত পরিবেশের artistic foreign vibe পেতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসুন Santiniketan। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৈরি এই শহরে open culture, mud house architecture, art café এবং সাংস্কৃতিক আবহ অনেকটা Europe-এর কোনও art village-এর মতো অনুভূতি দেয়। শান্ত পরিবেশ, বাউল সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা জীবনযাপন Santiniketan-কে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। Howrah থেকে Shantiniketan Express বা Visva Bharati Fast Passenger ধরে খুব সহজেই Bolpur পৌঁছানো যায়।
কলকাতার মধ্যেও রয়েছে বিদেশি vibe-এর একাধিক জায়গা। Prinsep Ghat-এর colonial architecture, গঙ্গার ধারের promenade এবং evening riverfront অনেকটা London riverside-এর মতো অনুভূতি দেয়। আবার Bow Barracks-এর red-brick building, Anglo-Indian culture এবং Christmas decoration দেখলে মনে হবে যেন Europe-এর কোনও শহরাঞ্চল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের ভিতরে ভ্রমণ বাড়লে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়। Hotel industry, homestay business, local transport, handicraft, tea industry, restaurant এবং ছোট ব্যবসায়ীরা সরাসরি লাভবান হন। বিদেশে টাকা খরচ করার বদলে সেই অর্থ দেশের মধ্যেই ঘুরলে GDP growth-এ ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে পাহাড় ও জঙ্গল এলাকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
বর্তমানে “Swadesh Tourism” বা স্বদেশ ভ্রমণকে আগামী দিনের বড় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার সময়ে দেশের ভিতরে tourism বাড়ানো শুধু অর্থনৈতিক নয়, এক ধরনের জাতীয় দায়িত্বও।
বার্তা ডেইলি-র পক্ষ থেকে সকল ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে একটাই অনুরোধ— আপাতত দেশের স্বার্থে নিজের দেশকেই নতুন করে চিনুন। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন থাকুক, কিন্তু তার আগে একবার দেখে নিন নিজের দেশের পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল আর সংস্কৃতির অমূল্য সৌন্দর্য। কারণ ভারত শুধু একটি দেশ নয়, এটি নিজেই এক সম্পূর্ণ পৃথিবী।
মতামত লোড হচ্ছে...